প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৫:৩২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২১, ৬:১১ পি.এম
হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০ করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লকডাউন

তালাশ প্রতিবেদক যশোর :- যশোর২৫০ শয্যা হাসপাতালের রেডজোন থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ রোগী লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলীপ কুমার রায়ের নির্দেশে গতকাল তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।এদিকে পালিয়ে যাওয়া রোগীদের বাড়িতে লকডাউন দেয়া হয়েছে।তাদের সংস্পর্শে আসা ৪০জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আরিফ আহমেদ জানান,তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন,চক্ষু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃহেমাদ্রী শেখর সরকার,অন্য দু'জন হলেন,সদস্য সচিব যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাঃইমদাদুল হক রাজু ও সদস্য হাসপাতালের কার্ডওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট তোহিদুল ইসলাম।আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরএমও ডাক্তার আরিফ আহমেদ আরো জানান,গতকাল থেকে রেডজোনে ০১জন করে নিরাপত্তা কর্মী ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।অনুমতি ছাড়া কেউ রেডজোনের আওতায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এ ছাড়াও গেট সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ করে রাখা হবে।সোমবার দুপুর থেকে রাত ১২ টার মধ্যে সকলকে হাসপাতালে ফিরিয়ে আনেন প্রশাসন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় জানান,রেডজোন থেকে রোগী লাপাত্তা হওয়ার বিষয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীর অবহেলা কিংবা বাইরের কারোর ইঙ্গিত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।গতকালই রেড জোনে সিল করা হয়েছে।বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।রোগীদের খাবার বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গেটে দায়িত্বরত কর্মচারীর মাধ্যমে পৌঁছতে হবে।
যশোর সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহীন জানান, ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে রেডজোনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।তাদের সকলের বাড়ি লকডাউনের পাশাপাশি সংষ্পর্শে আসা পরিবারের ৪০ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে।এর মধ্যে কারোর উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।
উল্লেখ্য গত ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে রেডজোনে ভর্তি হওয়া ১০ জন রোগী লাপাত্তা হয়ে যায়।এর মধ্যে ০৭ জন ভারত ফেরত রয়েছেন।লাপাত্তা হওয়া রোগীরা হলেন, যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দিপাড়ার বিশ্বনাথ দত্তের স্ত্রী মনিমালা দত্ত (৪৯) ওয়াবদা গ্যারেজ এলাকার ভদ্র বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস (৩৭),সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের রবিউলের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন(১৯),একই এলাকার একরামুল ইসলামের স্ত্রী রুমা(৩০),খুলনা পাইকগাছা উপজেলার ডামরাইল গ্রামের আহম্মদ সানার ছেলে আমিরুল সানা, খুলনা সদর উপজেলার কলিম কৃষ্ণের ছেলে বিবেকানন্দ (৫২) রুপসা উপজেলা এলাকার শের আলীর ছেলে সোহেল সরদার (১৯),সাতক্ষীরা আশাশনি উপজেলার মনোতোষ সর্দারের স্ত্রী শেফালী রানী (৪০)যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের ফজর আলীর ছেলে শহীদুল ইসলাম (৪৫),প্রতাপকাঠি গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মমিন, রাজবাড়ি রামকান্তপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪৯)।এদের মধ্যে মনিমালা দত্ত,মিলন হোসেন,শেফালী রানী,আমিরুল সানা,সোহেল সরদার,বিবেকান্দ সরকার ও নাসিমা আক্তার ভারত ফেরত ছিলেন।বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচার হলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মারুফ হোসেন