প্রতিনিধি 5 November 2026 , 12:53:13 প্রিন্ট সংস্করণ

তালাশ প্রতিবেদক॥
বরিশাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায় ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারের আশায় স্থানীয়দের হাতে আটক এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও শেষ পর্যন্ত উল্টো বিপাকে পড়তে হয়েছে মোবাইলের মালিক ও তাঁর স্বজনকে।

অভিযোগ, মোবাইল চুরির ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ তুলে ভুক্তোভোগী আবুল হোসেন ও তাঁর আত্মীয় রিন্টুকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে ডোপ টেস্ট করানোর ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট এলাকায় একটি স্ব-মিলের কর্মচারী আবুল হোসেনের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জমীর নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইমামুল ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহভাজন মোবাইল চোর জমীর, মোবাইলের মালিক আবুল হোসেন এবং তাঁর আত্মীয় রিন্টুকে থানায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর মোবাইল চুরির ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ তুলে আবুল হোসেন ও তাঁর আত্মীয় রিন্টুকে আটকে রাখেন এসআই ইমামুল। অথচ তাঁরা নিজেদের চুরি যাওয়া মোবাইলের ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। অভিযোগের আরও ভয়াবহ দিক হলো, তাঁদের ডোপ টেস্ট করানো হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে থানা থেকে মুক্তি পেতে তাঁদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। টাকা দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারের জন্য ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া কি ভুক্তভোগীদের জন্য উল্টো হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। একজন নাগরিক নিজের চুরি যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে পুলিশের সহায়তা চাইলে তাঁকে কেন থানায় আটকে থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধের তদন্ত করা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই ইমামুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এবিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ইমামুল বলেন- জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে অর্থ নেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন- বিষয়টা দুঃখজনক। আমি দেখছি।
এদিকে, এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ভুক্তভোগীদের থানায় ডাকেন অভিযুক্ত এসআই ইমামুল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, থানায় ডেকে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং এ ঘটনা নিয়ে যেন তাঁরা আর কোনো কথা না বলেন, সে জন্য চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।











