বরিশাল

চরবাড়ীয়ায় মহিষের তাণ্ডব!

  প্রতিনিধি ২৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:১৮:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

তালাশ প্রতিবেদক ॥
বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া ইউনিয়নের কদমতলা চরে প্রায় ২ শতাধিক মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মহিষ চরানোর কারণে কৃষিজমির ফসল, চারা, মাচা ও বেড়া নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি চর প্রায় ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরমোনাই, পশ্চিম কেউটিয়া ও সাহেবেরহাট এলাকার বাসিন্দারা দুটি মহিষের পাল পরিচালনা করছেন। মারজান, মিলনসহ ১০ থেকে ১৫ জন মিলে প্রায় ২০০ মহিষ ওই চরে চরাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

কৃষকদের ভাষ্য, এত বিপুল সংখ্যক মহিষ প্রতিদিন কৃষিজমির ওপর দিয়ে চলাচল করায় শুধু ফসলই নয়, জমির মাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী গবাদিপশুর চলাচলে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে শক্ত হয়ে যায়। এতে মাটিতে পানি ও বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, শিকড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি সবজি, ধানসহ বিভিন্ন ফসল, বীজতলা, চারা, মাচা, বেড়া ও সেচব্যবস্থাও ক্ষতির মুখে পড়ে।

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু চাপরাসি বলেন, “আমার প্রায় ৫০টি লাউগাছ, লাউয়ের মাচা, বেড়া ও গাছের ঝাঁপা মহিষের পাল নষ্ট করে ফেলেছে। এদের অত্যাচারে সাধারণ কৃষকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমরা চাষাবাদ করব, নাকি সারাদিন মহিষ তাড়াব?”

 

 

তার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে কয়েকটি কৃষিজমিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। এ সময় একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, সরকারি মালিকানাধীন চর প্রায় ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় খলিল পেদা এবং চরমোনাই ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্যের ভূমিকা রয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, জমির মালিক সরকার, চাষাবাদ করি আমরা গরিব কৃষক। অথচ সুবিধা নিচ্ছেন স্থানীয়ভাবে ‘চোরা খলিল’ নামে পরিচিত খলিল পেদা ও চরমোনাই ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্যে। সরকারি চর যদি নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়, তাহলে তা প্রশাসনের মাধ্যমে হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে ভিন্নভাবে সবকিছু হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহিষের পাল কৃষিজমিতে প্রবেশ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খলিল পেদা বলেন, সরকারি চর ৩ লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

 

 

মহিষের পাল পরিচালনাকারী মারজান ও মিলনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন- চরে আসতে কারোনা কারো সাথে কথা বলতে হয়েছে। আপনারাতো সবই বোঝেন। নাম বল্লে আমাদের ক্ষতি হবে। তবে দফায় দফায় টাকা দিতে হয়েছে বিভিন্ন লোককে। আমরা কোনো কৃষকের ফসল ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করিনি। তার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খলিল ভাইয়ের মাধ্যমে সমাধান করবো।

 

 

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মহিষ কৃষিজমিতে চরালে ফসল ও চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

স্থানীয়রা সরকারি চর ব্যবস্থাপনা এবং মহিষ চরানোর বৈধতা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষিজমি ও কৃষকদের জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।