প্রতিনিধি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫:৫৬:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
তালাশ প্রতিবেদকঃ

কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৫৭ জন কর্মচারী চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন। কেবল আবেদনপত্র বাবদ ৬০ টাকা ছাড়া কোনো চাকরিপ্রার্থীকে কোথাও টাকা-পয়সা দিতে হয়নি বলে দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০তম গ্রেডে নবনিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা এমন দাবি করেন। বিনা তদবিরে এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নবনিযুক্ত এসব কর্মচারী।
ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক, ব্যাপক আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেও সদ্য নিয়োগ পাওয়া ৫৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বিতর্ক দেখা যায়নি।
সূত্র জানায়, বিগত সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নানা জটিলতায় সংশ্লিষ্টরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। এমনকি ওই নিয়োগের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে ডিসির সাবেক সিএ মামুন ও তৎকালীন পেশকারের বিরুদ্ধে।
তবে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এর অধীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলো এবং বরিশাল সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ অক্টোবর এবং শেষ হয় ২৯ নভেম্বর। অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্প্রতি সম্পন্ন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দিতে হয়নি বলে জানিয়েছেন চাকরি পাওয়া কর্মচারীরা। চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশের কাছে নিয়োগ মানেই অর্থ লেনদেন, এমন অভিযোগের বাস্তবতার মধ্যে কোনো টাকা ছাড়াই চাকরি পাওয়ার দাবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার, মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ একাধিক কর্মচারী জানান, এর আগে তারা পাঁচ থেকে সাতবার ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। মেধা থাকা সত্ত্বেও ওই সময় তাদের নিয়োগ হয়নি। তবে দীর্ঘদিন পর কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ও তদবির ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা অত্যন্ত খুশি। কর্মজীবনে সততার সঙ্গে মানুষের সেবা করতে চান বলেও জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কারও কাছে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার আমার দেশকে বলেন, ‘কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়া যে চাকরি পাওয়া যায়, সদ্য যোগদানকারীরাই তার বড় প্রমাণ। আর কেউ না জানুক, যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারাই জানেন কীভাবে তাদের নিয়োগ হয়েছে।’
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ‘কোনো ধরনের চাপের কাছে আমি নতিস্বীকার করিনি। বরিশালে যোগদানের পর বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক নিয়োগ দিয়েছি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে, তাহলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান যে কারণে হয়েছিল, তার সুফল পেয়েছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা। আমি আশাবাদী, কর্মক্ষেত্রে তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।’















