বরিশাল

‎আজহারুল ইসলামের বিদায়-বালু মাফিয়াদের ঈদ!

  প্রতিনিধি ৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৫:১২:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

‎এম শাহাদাত ॥
কীর্তনখোলা নদীতে গভীর রাতে অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় থাকা বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বিদায় নিয়েছেন। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান তৎপরতা কতটা অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

 

‎
বরিশালে ২ বছর ৫ মাস ২১ দিনের কর্মকাল শেষে আজহারুল ইসলামের নতুন কর্মস্থল জাতীয় সংসদ সচিবালয়। তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে ৩০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকার অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

 

‎
‎বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীতে রাতের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল আলোচনায়। নদী রক্ষায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে, নাকি কর্মকর্তার বদলির সঙ্গে অভিযানের গতি থেমে যাবে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

 

‎
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারী কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন না, এমন ধারণা করছেন বালু ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথিত প্রত্যাশা, এতে কীর্তনখোলা নদীতে বালু উত্তোলন নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হবে।

 

 

‎আজহারুল ইসলামের বিদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও নদী দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন। কারণ, নদী রক্ষা কোনো একক কর্মকর্তার দায়িত্ব নয়, এটি প্রশাসনের ধারাবাহিক দায়িত্ব।

 

‎
‎আজহারুল ইসলামের বিদায় কারও কাছে একজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগের জায়গা থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কীর্তনখোলার বুকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আগের মতোই কঠোর থাকে, নাকি সেই তৎপরতায় ভাটা পড়ে।

আরও খবর

Sponsered content