প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০২৬ , ২:১৪:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

রকিব উদ্দিন পিয়ালঃ
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। এই সফরকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। বরিশালের ভাগ্যের আকাশে নতুন উন্নয়নের রূপরেখা কতটা দৃশ্যমান হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে বৃহত্তর বরিশালের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন এ অঞ্চলের মানুষ। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছেন অনেকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে অধিকাংশ আসন উপহার দেওয়া দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্যে এই সফর কী পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চিত বরিশালবাসীর অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণ এবং বরিশাল-ভোলা সেতু বাস্তবায়ন। বাজেটে বরাদ্দ না থাকলেও বৃহত্তর বরিশালের সংসদ সদস্যরা এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আশা আরও জোরালো হয়েছে।
এ ছাড়া নদীবেষ্টিত সম্ভাবনাময় দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের গতি বাড়ানোর দাবিও দীর্ঘদিনের। বরিশাল মহানগরীর বিসিক শিল্পনগরীর উন্নয়ন এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো বরাদ্দ আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। শহরের কিছু সড়কে সীমিত উন্নয়ন হলেও অধিকাংশ এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কের কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন নগরবাসী।
বরিশালসহ বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তার প্রতিফলন ঘটেছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রত্যাশা, এবারের সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং উন্নয়নের ক্ষুধায় থাকা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে কার্যকর ও দৃশ্যমান ঘোষণা নিয়ে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।










