প্রতিনিধি ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩২:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

তালাশ প্রতিবেদকঃ
অসদাচরণ ও গুরুতর দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাক্তন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি সৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওই পদবি ব্যবহার করে প্রায় ২৫৮ দশমিক ২৬ একর সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ২২২ একর খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় সৃষ্টি করে অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়া রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির ঘটনাও তদন্তে উঠে আসে।
তদন্তে সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মত দেয় যে, এ ধরনের কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা সমীচীন নয়। তাই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই আদেশে বেহাত হওয়া সরকারি খাস জমি ও সম্পত্তি জরুরি ভিত্তিতে সরকারের দখলে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শঙ্কর চন্দ্র মালাকার ২০২৩ সালে অবসরে গেলেও দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ায় অবসরকালীন কোনো সরকারি সুবিধা বা অবসরজনিত আর্থিক প্রাপ্য (সুবিধা) তিনি পাবেন না।
















