বরিশাল

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কুয়াকাটায় ৩১ বছরের বসতভিটা দখলের চেষ্টা

  প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৩৮:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

 

পরিবার অবরুদ্ধ, শিশু-বৃদ্ধদের মধ্যে আতঙ্ক, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

কুয়াকাটা প্রতিবেদক॥
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা একটি বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি পরিবারকে বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটার মুছল্লিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম মুন্সী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে স্থানীয় প্রশাসন ও পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মুন্সী জানান, ১৯৯৫ সালে এসএ খতিয়ানমূলে জমিটি ক্রয় করে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে সরকারি জরিপে তার নামে বিএস ১১২২ নম্বর খতিয়ানের ৪০৯১ নম্বর দাগে জমিটির চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩১ বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে ওই বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন বলে দাবি করেন।

 

 

সম্প্রতি জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের শরণাপন্ন হন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত বিবাদী মো. জাহিদুর ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

 

 

সেলিম মুন্সীর অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরদিন, ৯ সেপ্টেম্বর সকালে জাহিদুর ইসলাম সুমন কয়েকজন বহিরাগত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন সেলিম মুন্সী। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

 

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেলিম মুন্সী বলেন, বাইরে অপরিচিত লোকজনের অবস্থান ও হুমকির ঘটনায় তার ৪ ও ৯ বছরের দুই নাতি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তার অসুস্থ স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

 

তিনি বলেন, “বাইরে লোকজনের মহড়া দেখে আমার দুই নাতি আতঙ্কে অনবরত কান্নাকাটি করছে। অসুস্থ স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এমনকি ঘরের বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছি।”

 

 

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মুন্সী দাবি করেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যে চক্রের নাম উঠে এসেছিল, সেই চক্রের কয়েকজন সদস্যও জমি দখলের ঘটনায় জড়িত।

 

 

তার দাবি, ওই কথিত চক্রের একজন মূলহোতা হিসেবে পরিচিত সুমন বর্তমানে জাহিদুর ইসলাম সুমনের পক্ষ নিয়ে তাদের পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন।

 

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সেলিম মুন্সী আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে আইনি প্রতিকার চাওয়ায় বিবাদী পক্ষ তার পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তার ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

 

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সেলিম মুন্সী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিডির নম্বর ৩৭৮।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মুন্সী সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ জানান।

 

 

একই সঙ্গে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুর ইসলাম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content