প্রতিনিধি ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ১:০৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
তালাশ প্রতিবেদক:
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের একই টেবিলে বসে বৈঠকের ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলের নেতাদের এমন উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর বাজার এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুম মাস্টার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম মাস্টার এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ফনি মৃধা।

বৈঠকের বেশ কিছু ছবি এসেছে দৈনিক আজকের তালাশ-এর প্রতিবেদকের হাতে। ছবিতে একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তিকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার দৃশ্যও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে দুই দলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে যখন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের একই বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির একজন ইউনিয়ন আহ্বায়কের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক সভাপতির উপস্থিতি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মী দাবি করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাসুম মাস্টারের ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর লক্ষ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে জানতে চাওয়া হলে চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুম মাস্টারের 01982-195717 এই নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, চরমোনাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম মাস্টার বৈঠকটিকে রাজনৈতিক বলে অভিহিত করার বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, “গতকালকের ওই বৈঠকে বুখাইনগর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত সবাই উপস্থিত ছিল। এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের স্বার্থে আমরা সেখানে বসেছি।”
একদিকে বৈঠকটিকে স্কুলের স্বার্থে সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলন হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন নুরুল ইসলাম মাস্টার, অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি কর্মী এর পেছনে নির্বাচনী স্বার্থের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে বৈঠকটির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বৈঠকটি কি কেবল বুখাইনগর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, নাকি এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছিল?
















