অপরাধ

অনিয়মে জর্জরিত মঠবাড়িয়া পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়

  প্রতিনিধি ৮ মার্চ ২০২৬ , ৬:৩৩:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুর প্রতিবেদক:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সেবাপ্রার্থীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহজালাল কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়াই কর্মচারীদের নিয়ে একটি সমিতি পরিচালনা করে আসছেন। এ কাজের জন্য একাধিকবার বদলি হলেও বিভিন্নভাবে আবার আগের কর্মস্থলে ফিরে আসেন তিনি। সমিতির পদ ছেড়ে দিলেও আড়ালে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে অফিসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে তুষখালী ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) কামাল মৃধার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের কাজ তদারকির পরিবর্তে তিনি অধিকাংশ সময় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেন। ফলে ফিল্ড কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের আরেক এফপিআইয়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অফিসে বসে বিভিন্ন কর্মচারীর সঙ্গে আলোচনা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর অভিযোগ, তিনি ফিল্ড কর্মী এফডব্লিউএদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বেতমোর এলাকায় কর্মরত ভিজিটর সাদেকা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অর্থ ছাড়া তিনি সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এএনসি কার্ড ও আইইউডি সেবা দেওয়ার জন্য তিনি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করেন। টাকা না দিলে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ওষুধ চুরির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।
এছাড়া সদর ইউনিয়নের এফডব্লিউএ তানিয়া মেরীসহ কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে বাড়ি পরিদর্শন না করে বাজারে সময় কাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অনেক কর্মী নিজ কর্মস্থলে না থেকে সদর এলাকায় বসবাস করায় সেবা কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে এবং হাজারো মানুষ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভয়ের কারণে অনেক অভিযোগই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সুমাইয়া আক্তার রূপা বলেন, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অফিসে কোনো সমিতি পরিচালনার নিয়ম নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও খবর

Sponsered content